ঢাকা, শুক্রবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২১শে রবিউস-সানি, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

প্রযুক্তির উন্নয়নে পাকুন্দিয়ায় নেই লাঙ্গল ও হালচাষ
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: অপরাহ্ণ ১২:২৭ , ডিসেম্বর ৬, ২০১৬

শাহরিয়া হৃদয়:- কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় কৃষিকাজে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী কাঠের হাতল ও লোহার ফাল বিশিষ্ট কাঠের লাঙ্গল এখন শুধুই স্মৃতি।

মাঠে-ঘাটে প্রান্তরে আর দেখা নেই লাঙ্গল। কৃষকের মাঝে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বর্তমানে কৃষকরা কাঠের লাঙ্গল ব্যবহার না করে জমিতে এর পরিবর্তে পাওয়ার টিলার ট্রাক্টর ব্যবহার করছেন। এতে করে উৎপাদন খরচও বেড়েছে কৃষকদের ।

কৃষকরা জানান, এক সময় চাষাবাদের অন্যতম উপকরণ ছিল কাঠের লাঙ্গল। লাঙ্গল ছাড়া চাষাবাদের কথা চিন্তাই করা যেত না। কিন্তু আধুনিক যুগে চাষাবাদের যান্ত্রিক সব উপকরণ এসেছে। এসব যান্ত্রিক উপকরণ দিয়ে জমিতে চাষ দিলে সময় কম লাগে। সময় কম লাগলেও খরচ পড়ে বেশি।

লাঙ্গল, জোয়াল, মই মেরামত করতে হয় না। এগুলো একবার বানালে তা দীর্ঘদিন চলতো। তবে এখনও লাঙ্গল, জোয়াল, মই ব্যবহার করছেন উপজেলার পাটুয়াভাংগা,সুখিয়া ইউনিয়ন ও জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের অনেক কৃষক।

গ্রামের হাট-বাজারে এখন বিক্রি করা হয় না লাঙ্গল, জোয়াল, মই। প্রয়োজন হলে বাড়িতেই কারীগর ডেকে এনে বাড়িতেই তৈরি করে।

কাজিহাটি গ্রামের আইনত আলী ,চরকাওনা গ্রামের কফিল উদ্দিন সুখিয়া গ্রামের রতন, মমিন,কাছুম আলী সহ আরও অনেকের সাথে কথা বলে সুস্পষ্ট অনেক উত্তর পাওয়া যায়।

এর মধ্যে কয়েকজন বলেন,আমরা এসব সরঞ্জাম তৈরি করে হাট-বাজারে পসরা সাজিয়ে পাকুন্দিয়া বাজারে বসে থাকতাম বিক্রির আশায়। কিন্তু
আগের মতো চাহিদা না থাকায় ধীরে ধীরে পেশা আমরা পেশা পরিবর্তন করছি। কিন্তু তাদের মধ্য আইনত আলী,কফিল, রতন সহ কয়েকজন ঐতিহ্যকে এখনও ধরে রেখেছে।

লাঙ্গল তৈরির কারিগর কফিল উদ্দিন জানান, এক সময় তার সচ্ছল সংসার ছিল। লাঙ্গল তৈরি করে যা উপার্জন করতেন, তাই দিয়ে চলত পরিবার। ওই সময় গ্রাম-গঞ্জে লাঙ্গল দিয়ে চাষাবাদ করা হতো। তাই লাঙ্গলের চাহিদাও ছিল প্রচুর। সংসারে এসেছিল সুখ। প্রতিদিন ১০-১৫টি লাঙ্গল তৈরি করতেন তিনি।

এগুলো বিক্রি হতো পাকুন্দিয়া, সুখিয়া বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে।

মনির কদ্দিন জানান, বর্তমানে এখন গ্রামাঞ্চলে গরু দিয়ে জমি চাষ করা হয় না। তাই এ পেশাকে অনেকেই পরিবর্তন করেছেন। এক সময় আশ্বিন থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত লাঙ্গলের চাহিদা থাকত বেশি।

তিনি আরও বলেন, গাছের বিভিন্ন গুল বা গুঁড়ি আমরা ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত কিনতাম। এগুলো দিয়েই হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় লাঙ্গলে
রূপ দেওয়া হতো। ১৯৮০ দশক থেকে ১৯৯০ দশক পর্যন্ত, যা বাজারে ২০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো। কাঠের লাঙ্গল যেন আজ ঐতিহ্য বহন করা শুধুই স্মৃতি। কালের সাক্ষী হয়ে রইল কারিগরদের শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় কাঠের লাঙ্গল।

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।