ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং, ৩০শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

পাবনা সুগারমিলে আখ মাড়াই শুরু কোটি টাকা লোকসানের বোঝা নিয়ে
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: পূর্বাহ্ণ ১১:৫০ , ডিসেম্বর ৯, ২০১৬

মামুনুর রহমান,ব্যূরোচিফ পাবনা: পাবনার ঈশ্বরদীর সুগারমিল নানা সংকটে একের পর এক লোকসানের পাল্লা ভারী করছে পাবনা সুগার মিল। প্রতিষ্ঠার ২৪ বছরেও লাভের মুখ দেখতে পারেনি সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি। পর্যাপ্ত আখের অভাবে একদিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে চিনি উৎপাদন করতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে আখের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষীরা। প্রতি বছর অবিক্রিত থাকছে হাজার হাজার মেট্রিকটন চিনি। মিলকে লাভজনক করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন বাস্তবতায় ২৭৭ কোটি টাকা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে আজ শুক্রবার থেকে পাবনা সুগার মিলে শুরু হচ্ছে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আখ মাড়াই মৌসুম। তথ্য মতে, ১৯৯২ সালে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়ায় ৬০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় পাবনা সুগার মিল। ১৯৯৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনের যাওয়ার পর থেকে গত ২৪ বছরে কখনই লাভের মুখ দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। আখ স্বল্পতা, উৎপাদিত চিনি অবিক্রিত থাকা সহ নানা সংকটে প্রতি বছরই মিলটি ভারী করছে লোকসানের পাল্লা। ইতিমধ্যে লোকসানের অংক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকায়। গত দুই মৌসুম মিলিয়ে বর্তমানে মোট চিনি অবিক্রিত রয়েছে ৪ হাজার ৭৬৬ দশমিক ৯৫ মেট্রিকটন। প্রতিবছর ঢাকঢোল পিটিয়ে আখ মাড়াই মৌসুম শুরু করা হলেও মিলকে লাভজনক করতে তা কোনো কাজে আসছেনা। আর সেই লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই আজ থেকে পাবনা সুুগার মিলে শুরু হচ্ছে ১৯তম আখ মাড়াই মৌসুম। লোকসানের কারণ হিসেবে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান, চিনি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় আখ সরবরাহ মিলছেনা, পাশাপাশি উৎপাদন সামগ্রী ও বিভিন্ন মালামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান কমানো যাচ্ছেনা। মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম জানান, বর্তমান সরকার শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে অনেকাংশে। কিন্তু সে অনুপাতে বাড়েনি চিনির দাম। ফলে চিনি উৎপাদনের খরচ বাড়ার সাথে বাড়ছে লোকসানের হারও। এদিকে, আখের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং অন্য ফসল উৎপাদনে কম সময় ও লাভজনক হওয়ায় আখ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষীরা। কৃষকরা বলছেন, অন্য ফসল বছরে তিনবার ফলন পাওয়া যায়, লাভও হয় বেশি। কিন্তু আখ বছরে একবার ফলন হয়, আবার অন্য ফসলের তুলনায় দামও কম। তাই আমরা আখ বাদ দিয়ে অন্য সবজি আবাদে যাচ্ছি। তবে সরকার যদি আখের দাম বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করে তবে আখ আবাদ করা যায়। এ বিষয়ে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী জানান. মিলকে লাভজনক করতে কৃষকদের মাঝে আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য ফসলের সাথে মিল রেখে আখের দাম নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাহলে চিনির আহরণ হার বাড়বে। তিনি জানান, ২ লাখ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করতে পারলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫ হাজার মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন সম্ভব। তাহলে লোকসান থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। পাবনা চিনি কল জানায়, চলতি বছর পাবনায় ৪ হাজার ১১৫ একর জমিতে আখ আবাদ করা হয়েছে। যেখান থেকে আখ পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিকটন। আর চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন।

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।