ঢাকা, শুক্রবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২১শে রবিউস-সানি, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

কেন বাসা ছেড়ে আপনি ভ্যানে থাকবেন?
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: অপরাহ্ণ ৩:০৮ , ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬

বর্তমানে আমাদের জীবন অনেক বেশি যান্ত্রিক। একই নিয়মে চলছে প্রতিটি দিন। আমরা ৯টা থেকে ৫টা অফিস করছি, এরপর বাসায় গিয়ে পরিবারকে সময় দিচ্ছি। পরদিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই আবার অফিস। এভাবেই কাটছে আমাদের প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাত। আমরা যেন একটা নিয়মের মধ্যে বাঁধা পড়ে গেছি।

 

কেউ কেউ কিন্তু ইতিমধ্যেই এই নিয়মের বাইরে এসে অন্য রকম এক জীবন বেছে নিচ্ছেন। তারা ৯টা-৫টার জীবনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে রাস্তার ওপর একটি ফোর্ড ট্রানজিট ভ্যানে থাকার মতো জীবন বেছে নিচ্ছেন খুশি মনে। এ ধরণের মানুষের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকের কাছেই শুনতে অদ্ভুত মনে হলেও ২৩ বছর বয়সী সিন্ডী বৌল্ড এর কাছে বিষয়টি খুবই রোমাঞ্চকর। সিন্ডী এবং তার প্রেমিক জিম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা চাকরি ছেড়ে দেবেন। এবং তাদের বাকি জীবন নিজেদের সংস্কারকৃত ভ্যানে চড়েই কাটাবেন।

 

এখানে সিন্ডী ব্যাখ্যা দিয়েছেন কেন ভ্যানে চড়ে বাকি জীবন কাটানোটা তার স্বপ্ন। সিন্ডী বলেন, ‘আমি কখনই চাইতাম না এক জায়গায় খুব বেশি দিন থাকতে। বছরের পর বছর ধরে একই চাকরি করার ধারণা আমার কাছে সবসময়ই মৃত্যুর মতো যন্ত্রণাদায়ক মনে হতো। আমার মনে পড়ে যখন আমি প্রথম চাকরি শুরু করেছিলাম তখন শুনশান নীরব অফিস রুমে বসে আমি একবার জানালা দিয়ে বাইরের টকটকে আবহাওয়া দেখছিলাম আর ফাঁকা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকাচ্ছিলাম। তখন আমি ভেবেছিলাম আমার এই জীবনে এর চেয়েও বেশি কিছু পাওয়ার আছে।

 

এরপর আমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিউইয়র্কে একটি ছাত্রাবাসে বাস করতে শুরু করি এবং ঐ এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকি। আমার এটি খুবই পছন্দের কাজ ছিল কিন্তু খব দ্রুতই টাকা ফুরিয়ে যায়। আমি তখন বুঝতে পারি আমাকে আবারও চাকরি নিতে হবে এবং বাড়িতে থাকা শুরু করতে হবে। আমি বাড়ি গিয়ে টাকা আয়ের জন্য আরো বেশি পরিশ্রম করতে শুরু করি। কিন্তু কয়েক বছর ফাস্ট ফরোয়ার্ড কাজ আমাকে আরো বেশি হতাশ করে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে আমি অনেক বেশি কষ্টে থাকতাম। কারণ ঐ সময়টাতে আমি একটি ভবনের ভেতর আবদ্ধ না থেকে বিশ্বটাকে ঘুরে ঘুরে দেখতে চাইতাম।

 

তাই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করে চাই এবং সুন্দর সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে চাই।
ভ্যানে থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে আপনাকে কোনো ভাড়া দিতে হবে না, কোনো কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হবে না, কোনো অপ্রয়োজনীয় বিলও দিতে হবে না। আমি আমার বিদ্যমান সমস্ত বিল শূন্যের কোটায় নামিয়ে এনেছি। আমার কাছে এমন কিছু রেসিপি আছে যা অনেক সস্তা কিন্তু পুষ্টিকর। উদাহরণস্বরূপ উদ্ভিজ্জ tagines এবং অন্যান্য গ্রামীণ খাবার।

আসলে আমি মনে করি জীবনে সুখী হতে দৃশ্যমান জিনিসপত্রের খুব একটা দরকার নেই। এই ভ্যানটাই এখন আমাদের বসবাসের স্থান হতে যাচ্ছে। একটি খালি শেল থেকে এটি আমরা নির্মাণ করছি। এটিকে একটি নিরাপদ, উষ্ণ, আরামদায়ক বসবাসের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলা যদিও কঠিন কাজ। তারপরও ভ্যানটা এমনভাবে তৈরি করেছি যেন এটি যতটা সম্ভব শীতকালে উষ্ণ এবং গ্রীষ্মকালে শীতল থাকে। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে আমরা গ্রীষ্মে বেশিরভাগ সময় বাইরে, অর্থাৎ সৈকত, পাহাড়-পর্বত এবং উপত্যকায় কাটাবো।

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।