ঢাকা, বুধবার, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২৪শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

সে কখনো সেনাবাহিনীর সদস্য, কখনো পুলিশ অফিসার, কখনো বর্ডারগার্ড
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: অপরাহ্ণ ৫:১৬ , ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে পর্নোগ্রাফি ধারণ করে মেয়েদেরকে জিম্মি করে প্রতারণা করাই একমাত্র যার উদ্দেশ্য তার নাম কামরুজ্জামান মিথুন (২২)।

সে কখনো সেনাবাহিনীর সদস্য, কখনো পুলিশ অফিসার, কখনো বর্ডারগার্ড কিংবা সিভিল ডিফেন্স সদস্য পরিচয় দিয়ে এবং সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি দেখিয়ে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে মেয়েদের সাথে অবৈধ মেলা-মেশা করে চলেছে। ওই সব আপত্তিকর ও পর্নোগ্রাফি ছবি এবং ভিডিও ধারনকারী প্রতারক কামরুজ্জামান ওরফে কামরুল হাসান মিথুন স্থানীয় ই, ইউ ফাজিল মাদ্রাস থেকে দাখিল পাশ করে।

তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাপুর ইউনিয়নের লক্ষীপুর কাচারীপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম মো: নাজিম উদ্দিন। ওই প্রতারক মিথুন বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে দৈহিক মেলা-মেশার আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি এখন মানুষের হাতে হাতে পাওয়া যায়।ওই প্রতারক মোবাইলের মাধ্যমে তাঁর ধারণ করা পর্নোগ্রাফি ভিডিও বিভিন্ন ভাবে প্রচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে মেলা-মেশা করার পর্নোগ্রাফি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে অভিযোগের সত্যত্য খুঁজে পায় স্থানীয় সাংবাদিকরা।

জানা যায়, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভৈরব সরকারি জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে সে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয়
দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ করে কৌশলে ধর্ষণের চিত্র ও ছবি তার মোবাইলে ধারণ করে ইন্টানেটে প্রচার করার হুমকি দিয়ে কৌশলে অপহরণ করে ঢাকা গাজীপুরস্থ কোনাবাড়ি পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার আবুল হাজির বাড়িতে আটক রেখে তাকে ভয় দেখিয়ে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিতে বাধ্য করে।

নির্যাতিত ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিথুন সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রতারক মিথুন এক অজ্ঞাত যুবককে কাজী সাজিয়ে ভৈরব হাজী আসমত কলেজ মাঠে বিয়ের কথা বলে ৫টি অলিখিত খালি স্ট্যাম্পে ও তার পাচঁটি পাসপোর্ট সাইজ রঙ্গিন ছবিতে স্বাক্ষর নিয়ে বলে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। পরে ঢাকায় একটি বাসায় দীর্ঘদিন আটকিয়ে রেখে মেয়েটির দেহভোগ সহ শারিরিক নির্যাতন করতেন। এক সময় মেয়েটি জানতে পারেন আরো বিভিন্ন মেয়ের সাথে মিথুনের সম্পর্কের কথা। ফাঁদে পড়া মেয়েটি গত আড়াই মাস ধরে গর্ভবতী হলে ওই গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য মিথুন মেয়েটিকে মানষিক ও শারিরিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করে। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে মেয়েটি রাজি না হওয়ায় মেয়েটির তলপেট ও গোপনাঙ্গে একাধিক লাথি সহ সারা শরীরে আঘাত করে। আঘাতের ফলে মেয়েটির জরায়ু থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। যন্ত্রনায় সে কাতরাতে থাকলে মিথুন বাহির থেকে ৫টি বড়ি এনে সেবন করিয়ে তাকে বলে
ব্যাথা কমে যাবে। এর পর পেটের ব্যাথা তীব্র হয়ে গেলে তাকে তার বোনের স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার উত্তর লোহাজুড়ি কুড়েরপাড় গ্রামে নিয়ে তাকে আটক করে রাখে।

খবর পেয়ে তার পিতা মাতা স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সহ লোকজন নিয়ে ওই বাড়ি থেকে ওই ছাত্রীকে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গত ৭ ডিসেম্বর কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি দেখলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে গত ১০ডিসেম্ভর কিবশোরগঞ্জ ২৫০সয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রী বাদী হয়ে তার বাবার মাধ্যমে গত ১৩ ডিসেম্ভর মঙ্গলবার কুলিয়ারচর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।

ওই ছাত্রী আরো জানান, মিথুন তার আপত্তিকর ভিডিও এবং ছবি ইন্টানেটে ও মোবাইলে প্রচার করে তাদের মান সন্মান ক্ষুন্ন করেছে। সে প্রশাসনের নিকট প্রতারক মিথুনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাযায়, মিথুন বিগত কয়েক বছর ধরে প্রায়ই ১০/১৫ দিনের জন্য বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। এতে করে এলাকার লোকজন মিথুনকে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার আশংকা করছে। সে এলাকায় ১০/১২ জন যুবক নিয়ে একটি দল গঠন করার তথ্যও পাওয়া যায়। বাড়ি থেকে নিখোজ হওয়ার ঘটনায় মিথুনকে খুঁজতে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ একাধিকবার তার বাড়িতে যায়।

স্থানীয় গোবরিয়া ইউপি সদস্য সাইদুজ্জামান (জামান), স্থানীয় যুবক মোঃ মোবারক হোসেন অভিযোগের ভিত্তিতে মিথুনের নিকট থেকে একটি মেমোরিকার্ড উদ্ধার করলে ওই মেমোরিকার্ডে মিথুনের সাথে মেয়েদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওর আলামত এবং সেনাবাহিনী, ও পুলিশের ইউনির্ফম পরিহিত ছবিও তারা দেখতে পায়।

ইউপি সদস্য সাইদুজ্জামান (জামান) ও স্থানীয় যুবক মোঃ মোবারক হোসেন জানান, প্রতারক মিথুনকে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করে একটি
মেমোরিকার্ড উদ্ধার করা হয়। ওই মেমোরিকার্ডে কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে প্রতারক মিথুনের পর্নগ্রাফি ভিডিও এবং ছবি সহ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পোষাক পরিহিত ছবি দেখা যায়। সে উধাও হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ একাধিকবার তাকে খুজতে তার বাড়ি আসে।

গোবরিয়া আব্দুল্লাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্বাস উদ্দিন জানান, মেয়েদেরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েদের সঙ্গে তোলা মিথুনের আপত্তিকর ছবি ও  ভিডিও সহ সেনাবাহিনী, পুলিশের পোষাক পরিহিত বিভিন্ন ছবি আমি দেখেছি। এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন মাদ্রাসার ছাত্র মিথুন বিভিন্ন মেয়েদের সঙ্গে প্রতারণা করে অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করছে। নারীলোভী মিথুনের দৃষ্টন্তমুলক শাস্তি হলে অসহায় মেয়েরা প্রতারক মিথুনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।