ঢাকা, বুধবার, ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২৪শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকেই সহযোগিতা পেয়েছিল হ্যাকাররা!
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: পূর্বাহ্ণ ১১:২৪ , ডিসেম্বর ৩০, ২০১৬

রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতর থেকেই হ্যাকারদের সহযোগিতা করা হয়েছিল। আর এতে ব্যাংকের কয়েকজন আইটি টেকনিশিয়ান জড়িত ছিল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানিয়েছেন রিজার্ভ চুরির ঘটনায় পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ডিআইজি (সিআইডি) শাহ আলম।

বাংলাদেশে ব্যাংকের ভেতর থেকে হ্যাকাররা কীভাবে সহযোগিতা পেয়েছিল, কয়েক মাস তদন্তের পর সে সম্পর্কে তদন্ত কমিটি বেশকিছু তথ্য পেয়েছে বলেও তারা এই কর্মকর্তা। শাহ আলম রয়টার্সকে জানান, ‘আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য সুইফটের একটি ‘পাসওয়ার্ড টোকেন’ (একটি বিশেষ ডিভাইস) কয়েক মাস ধরে সুইফট সার্ভারে লাগানো ছিল। অথচ প্রতিদিনের কাজ শেষে তা খুলে নিরাপদ একটি ভল্টে রাখার কথা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই পাসওয়ার্ড টোকেন সার্ভারে সংযুক্ত থাকায় হ্যাকাররা সিস্টেমে ঢুকে ম্যালওয়্যার ছড়ানোর সুযোগ পায়। আর পরে সেখান থেকে অর্থ স্থানান্তরের ভুয়া অনুরোধ পাঠায়।’
ব্যাংকের ভেতর থেকে কীভাবে ওই সাইবার চুরিতে সহযোগিতা করা হয়েছিল, তা জানতে পারলেও এর সঙ্গে কে জড়িত তা জানা যায়নি বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শাহ আলম জানান, অন্তত ৬ জন ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে ওই টোকেন থাকার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা এ সম্পর্কে রয়টার্স-কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে কোনও কর্মকর্তাকে আটক করার পরিকল্পনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নেই বলে তিনি জানিয়েছেন।
মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এবং ইন্টারপোলও এই রিজার্ভ চুরির তদন্ত করছে। তবে এ সম্পর্কে ওই সংস্থাগুলো এবং সুইফট কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
শাহ আলম জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা হয়নি। তবে তদন্ত এখনও চলছে আর এজন্য ওই ঘটনার পর থেকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। এরপর ওই অর্থ পাঠানো হয় ফিলিপাইনের কয়েকটি ক্যাসিনোতে।
হ্যাকাররা ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ মিলিয়ন পাঠিয়েছিল শ্রীলঙ্কায়। তবে বানান ভুলের কারণে ওই অর্থ ব্যাংক থেকে তোলা যায়নি। আর এর ফলে এই রিজার্ভ চুরি বা সাইবার ডাকাতির বিষয়টি সামনে আসে।
এ ঘটনা প্রথম জানাজানি হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে। ফিলিপাইনের দৈনিক ইনকোয়ারারে এ নিয়ে অনুসন্ধানী একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে মার্চের শুরুতে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ঘটনার দায় কাঁধে নিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
এ ঘটনায় আরসিবিসির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে আরসিবিসিও বার বার দাবি করে আসছে, এ ঘটনায় তাদের দায় নেই। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া অর্থের মাত্র ১৫ মিলিয়ন ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ।
সূত্র: রয়টার্স।

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।