ঢাকা, শুক্রবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২১শে রবিউস-সানি, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

নতুন প্রত্যাশায় পুঁজিবাজারে শুভ সূচনা
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: অপরাহ্ণ ২:৫৬ , জানুয়ারি ১, ২০১৭

নতুন বছরে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে শুভ সূচনা করেছে দেশের পুঁজিবাজার। ২০১৭ সালের প্রথম কার্যদিবস রোববার ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শুরু করেছে দেশের পুঁজিবাজার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব ও স্টেকহোল্ডারদের নানামুখি তৎপরতার কারণে আস্থায় ফিরেছে পুঁজিবাজার। ব্যাংক সুদের নিম্নমুখি হার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সরকারি শেয়ার অফলোডের খবর সব মিলিয়ে বাজার স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে।

বিনিয়োগকারীদের দোরগোড়ায় শেয়ারবাজার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে ২৮ জেলায় উন্নয়ন মেলা করার পরিকল্পনা করে ফেলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এছাড়া আগামী ৮ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির নবনির্মিত নিজস্ব ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেও শেয়ারদর ও সূচক বাড়ছে বলে মনে করেন বাজার-সংশ্লিষ্ট অনেকে।

পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান  বলেন, দেশের শেয়ারবাজার এখন ঊর্ধ্বমুখি প্রবণতায় রয়েছে। আমাদের স্টেকহোল্ডার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যদি তাদের স্ব স্ব জায়গা থেকে সঠিক কাজ করে তাহলে আগামীতে শেয়ারবাজারে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে ক্রয়যোগ্য অনেক শেয়ার রয়েছে, যেখানে বিনিয়োগ করলে নিশ্চিত লাভ আসবে। তবে বিনিয়োগকারীদের ঋণ না করে অথবা সম্পদ বিক্রি করে শেয়ারবাজারে না আসার পরামর্শ দেন তিনি।

অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন দরপতনের পর শেয়ারদর সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। ফলে বাজার ঊর্ধ্বমুখি ধারায় রয়েছে, আস্থায় ফিরছে বিনিয়োগকরীরা। নতুনরাও আসছে বাজারে।

এক্ষেত্রে ব্যাংক সুদের হার সাম্প্রতিক সময়ের সর্বনিম্নে নেমে যাওয়াও পুঁজিবাজারে নতুন বিনিয়োগ আসতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, বাজার যখন ভালো হয় তখন কারসাজিচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সময়োপযোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন হতে হবে। উৎপাদন বন্ধ, ডিভিডেন্ড দিতে পারবে না- এমন কোম্পানি থেকে বিনিয়োগকারীদের দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রোববার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরুর প্রথম দেড় ঘণ্টায় বেলা ১২টায় প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছিল পাঁচ হাজার ৭০ পয়েন্টে এবং শরীয়াহ সূচক ডিএসইএস ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৯৬ পয়েন্ট ও ডিএস ৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৮২০ পয়েন্টে।

ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২২৩টির, কমেছে ৫৭টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর। লেনদেন হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স ৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৪৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। সিএসইতে মোট ২০৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২০৭টির, কমেছে ১৫২টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার দর। টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান জানান, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজার গতিশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে আগামীতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতার বাজারে এখন স্বস্তিতে ফিরেছে; যার কারণে দেশি বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি বাজারমুখি হচ্ছেন বিদেশিরাও। পুঁজিবাজারের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্রয় প্রবণতা লক্ষণীয়; যা বাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের সঙ্কেত দেয়৷

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।