ঢাকা, সোমবার, ১০ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২৪শে রবিউস-সানি, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

কিশোরগঞ্জে অপহৃত যুবকের লাশ উদ্ধার
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: অপরাহ্ণ ১২:৫৪ , জানুয়ারি ৮, ২০১৭

শাহরিয়া হৃদয়ঃ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে সন্ত্রাসী কাজের সহযোগিতা না করায় অপহরণ করে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে জসিম উদ্দিন (১৯) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ গতকাল মুমুরদিয়া ইউনিয়নের মাগুড়া বাজারের পাবলিক টয়লেটের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে।
জানা যায়, মুমুরদিয়া ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন (১৯)কে সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমান পূর্ব বিরোধের জের ধরে বাড়ি থেকে বের হলে বৃহস্পতিবার তাকে ধাওয়া করে। তারপর থেকে জসিম নিখোঁজ রয়েছে। তাকে খুঁজে না পেয়ে শুক্রবার জসিমের মা হেলেনা কটিয়াদী থানায় চারজনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করে। নিহত জসিমের মা হেলেনা বলেন, জিয়া এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। আমার ছেলেকে তার অপকর্মের সঙ্গে জড়াতে চেষ্টা করছে।
তার কথামত কাজ না করায় বৃহস্পতিবার তাকে জসিম বাড়ি থেকে বের হলে তাকে ধাওয়া করে। এরপর থেকে আমার ছেলে নিখোঁজ রয়েছে। জিয়ার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। চুরি ডাকাতিসহ নানা রকম অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারপিটসহ বাড়িঘর ভাঙচুর করে। প্রকাশ্যে কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। মাগুড়ার মাছ ব্যবসায়ী জয়নাল বলেন, জিয়া বাহিনীর অত্যাচারে আমার ও খোকনের পরিবার এলাকা ছেড়ে কটিয়াদীতে অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ে আছি। বাড়ি থেকে বিতাড়িত অনেকেই তার সঙ্গে সমঝোতা করে বাড়ি ফিরেছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জিয়াউর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কটিয়াদী থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, জিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, হত্যার মোটিভ পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
তবে অপহরণ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, জিয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলেও প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে সে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। এডিশনাল এসপি জামাল উদ্দিন বলেন, জসিম এক সময় সন্ত্রাসী জিয়ার আশ্রয়েই থাকতো।কিন্তু তাদের মধ্যে নানা বিষয়ে মতোবিরোধ দেখা দেয়ায় সন্ত্রাসী জিয়া তাকে অপহরণ করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।