ঢাকা, সোমবার, ১০ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২৪শে রবিউস-সানি, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

ফেব্রুয়ারি মাসে ব্লগারদের উৎপাত বাড়ে: পুলিশ
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: অপরাহ্ণ ৩:৩৮ , জানুয়ারি ৮, ২০১৭

ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে গ্রন্থমেলাকে ঘিরে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগারদের তৎপরতা বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। বেশ কয়েকজন ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানাতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন।

রবিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের(ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জনাব বাতেন।

২০১৩ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গণজাগরণ শুরু হলে এই আন্দোলনে সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। হত্যা হয় অনলাইনে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখালেখিতে জড়িত কয়েকজনকেও।  এসব হত্যার মধ্যে কেবল ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে খুন হওয়া ব্লগার রাজীব হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে রায় হয়েছে।

রাজীবের পর ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্লগার মামুন হোসেন, ২ মার্চ ব্লগার জগৎজ্যোতি তালুকদার ও ব্লগার জিয়াউদ্দিন জাকারিয়া বাবুকে হত্যা করা হয়।

২০১৩ সালের ৯ এপ্রিল প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কবি নজরুল ইসলাম হলে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্লগার আরিফ রায়হান দ্বীপকে। ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি অগ্রণী ব্যাংকের কর্মী ও ব্লগার জাফর মুন্সিকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে  হত্যা করা হয়।

২০১৫ সালের গত ১২ মে সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় মুক্তমনার ব্লগার ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

একই বছরের গত ৩০ মার্চ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বেগুনবাড়ি দিপীকার ঢাল এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যাওয়ার পথে ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

তার আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে নয়টার দিকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা থেকে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা ব্লগার অভিজিৎ রায়কে টিএসসি এলাকায় কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে হাসপাতালে মারা যান তিনি।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ‘অধিকাংশ ব্লগার হত্যা ক্লুলেস ও চাঞ্চল্যকর। তবে নিবিড় তদন্তে ব্লগার হত্যাকাণ্ডে অধিকাংশ জড়িতরা গ্রেপ্তার হয়েছে। শুধু মাত্র জুলহাস মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের শনাক্ত করা গেছে।’

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগানের লেক সার্কাস রোডের বাড়িতে প্রবেশ করে জুলহাস মান্নান ও তার বন্ধু থিয়েটারকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

আবদুল বাতেন বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস। এই মাসে বই মেলা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। এ সময় ব্লগারদের উৎপাত ও তৎপরতা বেড়ে যায়। এসময় ব্লগারকেন্দ্রিক জঙ্গি তৎপরতা বেড়ে যায়।’

ব্লগারদের উপর হুমকি রয়েছে কি না জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দজঙ্গি তৎপরতা কম হলেও গোয়েন্দাদের বসে থাকার সুযোগ নেই। সব বিষয়ে নজরদারি রাখতে হয়। বই মেলাকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ, পূর্ব বিভাগের  উপ-কমিশনার খোন্দকার নুরুন্নবী, পশ্চিম বিভাগের  উপ-কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।