ঢাকা, সোমবার, ১০ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২৪শে রবিউস-সানি, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

গরীব দুঃখী ও অসহায়দের প্রাপ্য দুম্বার মাংস গেলো কোথায় ?
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: অপরাহ্ণ ৬:০৯ , জানুয়ারি ৯, ২০১৭

শাহরিয়া হৃদয়, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গরীব দুঃখী ও অসহায়দের প্রাপ্য দুম্বার মাংস গেলো কোথায় এ জল্পনা কল্পনা এখন গরীব দুঃখীদের মাঝে।

প্রতিবছর সৌদি সরকার তাদের দেশে কোরবাণীর ঈদে জবাইকৃত দুম্বার মাংস বাংলাদেশসহ অন্যন্য দেশের এতিম ও গরিব দুঃখীদের জন্য পাঠায়। সে হিসেবে এবারও গত এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের সকল উপজেলার ন্যায় কুলিয়ারচর উপজেলাতেও আসে দুম্বার মাংস। কিন্তু উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিঅইও)’র মাধ্যমে এ মাংস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যাদের কাছে পাঠানোর পর কিছু জায়গায় বিতরণ করলেও অধিকাংশ ইউনিয়নে এসব মাংস গরিব দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করতে দেখা যায়নি।

অথচ তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকা এতিম, দুস্থ. গরীব দুঃখী ও অসহায়দের মাঝে সে মাংস বিতরণ না করে অনেক জায়গায় এই মাংস ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত কিছু লোকের মাধ্যমে চলে যায় অজানায়। আর অজানায় চলে যাওয়ার কারণে সৌদি সরকারের দেওয়া দুম্বার মাংস থেকে বঞ্চিত হয়েছে এ উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের এতিম, দুস্থ, গরীব দুঃখী ও অসহায় মানুষরা।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অসহায় ভিক্ষুক আক্ষেপ করে বলেন, আমরা তো বাবা গরীব বলে বছরে একবারও মাংসের মুখ দেখতে পায়না। বছর ঘুরে কোরবাণী ঈদ আসলে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিছু মাংস কুড়িয়ে এনে ছেলে মেয়েদের নিয়ে খাই। আর আমরা আশায় থাকি সৌদি আরব থেকে কখন আসবে দুম্বার মাংস। কিন্তু এইবার ইউনিয়ন পরিষদের লোকজনের কর্মকন্ড দেখে মনে হয় যেন তারাও আমাদের মত অনেক দিন ধরে মাংস খায়নি। পরে কথা হয় উপজেলার ফরিদপুর ও সালুয়া ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যানদের সাথে।

এসময় ফরিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহ আলম বলেন, আমি ৪ প্যাকেট মাংস পেয়ে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে গরিব দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করেছি। সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ৫প্যাকেট মাংস পেয়ে নিজেই বিতরণ করেছি। কিন্তু কোথায় বিতরণ করেছেন এ কথা জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সৌদি সারকারের কাছ থেকে পাওয়া দুম্বার মাংস কুলিয়ারচর উপজেলায় কত প্যাকেট এসেছে এমন এক প্রশ্নের উত্তরে লিয়ারচর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন আমি এখন অষ্টগ্রামে রয়েছি, এই মুহুর্তে কাগজপত্র না দেখে সঠিক তথ্য দিতে পারবো না। তবে তিনি এ কথাও বলছেন, আমি উপজেলা থেকে ইউপি চেয়ারম্যাদেরকে সঠিক বণ্টনের দ্বায়ীত্ব দিয়েছি।

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।