ঢাকা, শুক্রবার, ৭ই মাঘ, ১৪২৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং, ২১শে রবিউস-সানি, ১৪৩৮ হিজরী
bartabazar viber

শিবির-ছাত্রদলকর্মী ও বিবাহিতদের নিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি!
বার্তা বাজার ডেস্ক | প্রকাশিত: অপরাহ্ণ ২:২৭ , জানুয়ারি ১১, ২০১৭

ইসলামী ছাত্র শিবির ও ছাত্রদলের সাবেক কর্মী, বিবাহিত ও অছাত্রদের দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের ১৬৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্মেলনের প্রায় দুই বছর পর ঘোষিত এই পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে নিয়ে ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সম্মেলনের পরের বছর ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি চৌধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেলকে সভাপতি, আশরাফুল আলম ও রাকিব হোসেন লোটাসকে সাধারণ সম্পাদক,  শাহাদাত হোসেন শরীফ, মামুনুর রশিদ মামুনকে যুগ্ন-সম্পাদক করে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগের পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়।

সম্মেলনের দুই বছর পর ২৫ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত ১৬৬ সদস্যের লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ণাঙ্গ এ কমিটিতে ৬৫ জন রয়েছেন অছাত্র, বিবাহিত, চাকরিজীবী এবং শিবির ও ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা।

ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী জনান, জেলা কমিটির সহ-সভাপতি কেএম বাপ্পি কবির বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক। আরেক সহ-সভাপতি  সাজ্জাদুর রহমান সাগর বিবাহিত। সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান গনি বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। সাইফুল ইসলাম স্বপন সহ-সম্পাদক হলেও তার ছাত্রত্ব নেই এবং দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। জেলা কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন সাবেক শিবিরকর্মী কামরুন নবী চৌধুরী জুয়েল। পৌর ছাত্রদলের সহসাহিত্য সম্পাদক রেজাউল করিম রিয়ান পেয়েছেন উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদ।

লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদল সভাপতি সেবাব নেওয়াজ উপদফতর সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক পলক আহাম্মেদ সহ-সম্পাদক, সাবেক ছাত্রশিবিরকর্মী শরীফুন্নবী চৌধুরী ফয়সাল ও আরিফুর রহমান এবং রামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক মিলন আঠিয়া পেয়েছেন সদস্য পদ।

এছাড়া ডাকাতিকালে অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে আটক কাজী মামুনুর রশিদ বাবলু, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় চাকরিরত সাহাদাত হোসেন রায়হান এবং মাদ্রসা শিক্ষক মো. জাবেদ হোসেনকে দেওয়া হয়েছে জেলা কমিটির সহ-সভাপতির পদ।

রায়পুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মারুফ বিন জাকারিয়া বলেন, ‘১২১ সদস্যের স্থলে ১৬৬ সদস্য কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে অছাত্র, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বিবাহিতদের। এমন সংবাদ ছাত্রলীগের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বিচ্যুত করে। শিবির কর্মী, ছাত্রদল কর্মী ও সমর্থিতরা জেলা ছাত্রলীগে এসে সংগঠনকে  ধ্বংস করার  পাঁয়তারা করছে। এতে করে ছাত্রলীগের মূলনীতির বিচ্যুতি ঘটবে।’

জেলা ছাত্রলীগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক নেতা বলেন, ‘ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মতে জেলা কমটির পদের সংখ্যা হবে ১০১টি। ২৯ বছরের কম বয়সী ছাত্র, অবিবাহিতরাই পাবে  ছাত্রলীগের পদ। চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের জন্য তো অন্যন্য সহযোগী সংগঠন রয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের কমিটি দেখে মনে হয়েছে, দলীয় আদর্শেও চেয়ে ভাইয়া লীগকে এখানে গুরুত্ব বেশি দেওয়া হয়েছে।’

সমালোচনার বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি চেীধুরী মাহমুদুন্নবী সোহেল বলেন, ‘কেবল বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি তার সাংগঠনিক এখতিয়ারে সংগঠনের স্বার্থে ১৬৬ জনকে অনুমোদন দেন।’

কমিটিতে বিবাহিত ও চাকরিজীবী সম্পর্কে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘ছাত্রলীগের সব নেতাকর্মী যদি ছাত্রই হয় তাহলে রাজনীতি করবে কারা?  আর এই জন্যেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এরকম কমিটি করছেন।’ এ কমিটিতে শিবির, ছাত্রদলের লোকজন স্থান পেয়েছেন স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে এ বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটির রয়েছে। কমিটিতে শিবির, ছাত্রদল স্থান পেলে ঐক্য ও শান্তির পরিবর্তে কোন্দল সৃষ্টি হবে।’

বার্তা বাজার.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।